উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ফের এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম বাসুদেব নস্কর (৪৪)। তাঁর বাড়ি বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকায়। ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই স্বামীকে খুনের অভিযোগ তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেন স্ত্রী সোনালি নস্কর। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শয্যায় পড়েছিলেন বাসুদেব।

পরের দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাসুদেবের অসুস্থতার খবর জানিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে প্রথমে জেলে যান সোনালি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এরপরই তিনি ছুটে যান বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে।
সোনালির অভিযোগ, হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শয্যায় পড়ে থাকতে দেখেন। এই পরিস্থিতিতে স্বামীকে দেখে তিনি বাড়ি ফিরে যান। মঙ্গলবার সকালে ফের হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, বাসুদেবের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই স্বামীর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন তুলে খুনের অভিযোগ করেন তিনি।মৃতের স্ত্রীর আরও অভিযোগ, স্বামীর অসুস্থতা থেকে শুরু করে তাঁর মৃত্যু—কোনও বিষয়েই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কীভাবে বাসুদেবের মৃত্যু হল, সেই প্রশ্নের উত্তরও দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের শৌচাগার থেকে বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই হাসপাতালে আর এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে দুই বন্দির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নিরাপত্তা, বন্দিদের উপর নজরদারি এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।বাসুদেব নস্করের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতা কতটা—এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট মহল।