ইজরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মুখে। নির্বাচনী সমীক্ষায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে নিজের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব-ইজরায়েলি নাগরিক। তাঁদের ভোটদানের হার বাড়লে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ইজরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, কোনও একটি দল সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১২০ আসনের নেসেটে আসন পায় বিভিন্ন দল।

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে নির্বাচনে কোনও দল এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোটের সমীকরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে সরকার গঠনের চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম সম্ভাবনা, আসন কম পেলেও ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারেন নেতানিয়াহু। তাঁর লিকুদ পার্টি এবং বর্তমান কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় মিত্ররা মিলিতভাবে ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারলে নতুন করে সরকার গঠন করতে পারবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন না পেলেও জোটের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার সুযোগ থাকবে তাঁর।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা, বিরোধী জোটের ক্ষমতায় আসা।

সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবির অন্যান্য বিরোধী দলকে একজোট করতে পারলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ খুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে আরব রাজনৈতিক দল রা’মের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২১ সালে সরকার গঠনের সমীকরণে এই দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তবে বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তৃতীয় সম্ভাবনা, একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের শিবিরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এমন সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে উদ্যোগ নিতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তবে দুই শিবিরের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এমন সমঝোতা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চতুর্থ সম্ভাবনা, সংখ্যালঘু সরকার। কোনও পক্ষই ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলির সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের সরকারকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের অন্য দলগুলির সমর্থন জোগাড় করতে হবে। ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

নির্বাচনে কোন দল কত আসন পেল, তার পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী জোটের হিসাবই ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে। নেতানিয়াহু ফের ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীরা নতুন সরকার গড়বে—তা নির্ভর করছে নির্বাচনের ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক দর-কষাকষির ওপর।