মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইন্ডিয়া জোটের আবেদনকারীদের ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া হলফনামার জবাব দিতে এই সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার বিস্তারিত শুনানি হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়-সহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার একাধিক নেতা-নেত্রী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার মামলাটি শুনানির তালিকায় থাকলেও বিস্তারিত শুনানি হয়নি।

গত ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে। সেদিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনের সচিবকে জবাব দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়। পরে কমিশনের তরফে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেওয়া হয়। এবার সেই হলফনামার জবাব দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সময় দিল আদালত।

শুনানিতে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আবেদন জানান, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত ফাইলের নোটিং-সহ সমস্ত নথি যেন সংরক্ষণ করা হয়। তাঁর বক্তব্য, সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল, নাকি একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য ওই নথিগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এ বিষয়ে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, আবেদনটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

এদিকে, তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের হয়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী শুনানিতে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার ফর্ম ৬ নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের তরফে অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের প্রেস বিবৃতিতেও সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কমিশনের আইনজীবী মনিন্দর সিং অবশ্য এই অভিযোগগুলি খারিজ করেন।

অন্যদিকে, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলনের সময় এক মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক একটি মামলায় রাহুল গান্ধীর জবাব চেয়ে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগকারী সাংবাদিক রিচা পরাশরের দাবি, গত ১২ অক্টোবর রাহুলের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান কর্মসূচির সময় তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি ১১ সপ্তাহ তিন দিনের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

তবে সাংবাদিক রিচা পরাশর নিজে সরাসরি মামলা দায়ের করেননি। তাঁর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিগন্ত মিশ্র-সহ চারজন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে বিবাদী করে মামলা করেছেন। আগামী ২ নভেম্বর ওই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।