পুবের কলম, লন্ডন: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট নিকোবর মেগা-প্রকল্পে শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের অন্তর্ভুক্তি এবং তার ফলে স্থানীয় আদিম ‘শম্পেন’ জনজাতির ওপর নেমে আসা সম্ভাব্য অস্তিত্ব সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল লন্ডনের বিখ্যাত ‘সাইন্স মিউজিয়াম’। বিশ্বখ্যাত এই মিউজিয়ামটি যেন আদানির সঙ্গে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বা স্পন্সরশিপের চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করে, সেই দাবিতে মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে সোচ্চার হন অধিকার রক্ষা ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। ‘সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা ‘গ্রিনওয়াশিং’-এর অভিযোগ তুলে সরব হন।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীরা মিউজিয়ামের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মিউজিয়ামের ডিরেক্টর স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানিকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেন—"ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড, আপনার হাতে রক্তের দাগ!
গৌতম আদানি, আপনার হাতে রক্তের দাগ!" শম্পেনরা মূলত যাযাবর ও শিকারী গোষ্ঠী, যারা প্রায় ১০,০০০ বছর ধরে বাইরের পৃথিবীর সাথে প্রায় যোগাযোগহীন অবস্থায় গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বসবাস করছে। সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের মতে, বর্তমানে তাঁদের মোট জনসংখ্যা মাত্র ৩০০ জনের কাছাকাছি। ভারত সরকার এই প্রাকৃতিক দ্বীপটিকে ক্যাসিনো, আন্তর্জাতিক বন্দর, সেনাক্যাম্প, শপিং মল ও থিম পার্কসহ ‘ভারতের হংকং’ এবং লাস ভেগাস শহরের মতো মেগা-সিটিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছে।আরও পড়ুন:
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, প্রায় ৯৫ শতাংশ রেইনফরেস্টে ঘেরা অতি-জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এই দ্বীপে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অন্তত ১ কোটি গাছ কেটে ফেলা হবে। যা কেবল দ্বীপের ইকোসিস্টেমকে ধ্বংসই করবে না, বরং বিশ্বের কোথাও না পাওয়া বিরল প্রজাতির প্রাণী ও শম্পেনদের চিরতরে বিলুপ্ত করে দেবে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে একছত্রভাবে এগিয়ে চলেছে বলে আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত, আদানি গ্রুপ এই প্রস্তাবিত মেগা-পোর্ট নির্মাণের টেন্ডারে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই চুক্তির জন্য প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিরোধী নেতা অভিযোগ তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী হওয়ার সুবাদে আদানিই এই লাভজনক চুক্তিটি পেতে চলেছে।