নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার বিধানসভায় শপথ নিলেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। পুজোর পর বিধানসভায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুভেন্দু অধিকারীও দুই বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন:
শপথগ্রহণের পর বিধানসভায় দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই সরকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা কেবল শুরু। উন্নয়নের আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বিজেপিকে সংখ্যালঘু-বিরোধী আখ্যা দেওয়ার বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে বিজেপির জয় এবং অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ওই কেন্দ্রে প্রায় ৭০ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য।
তাঁর আরও দাবি, রেজিনগরের ৩০০টি বুথের মধ্যে প্রায় ২০০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তা সত্ত্বেও সেখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে জানান তিনি।আরও পড়ুন:
এদিন নিজের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় শুটার ও সুপারি কিলার-সহ সাতজনকে সিবিআই গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের জন্য সুপারি বাবদ দেওয়া দুই কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল, তা এখনও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
ক্যামাক স্ট্রিট, কালীঘাট না ডায়মন্ড হারবার—কোথা থেকে ওই টাকা এসেছিল, তা জানা গেলে তদন্ত সম্পূর্ণ হবে বলেও দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুন:
নন্দীগ্রামের বিধায়ক হাসিরানি রথকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ওই আসন ছেড়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের আসন ছাড়ায় এলাকার অনেকেই তাঁর উপর অভিমান করেছিলেন। তবে তিনি তাঁদের বিষয়টি বুঝিয়ে এসেছেন। শুভেন্দুর দাবি, ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিলে তিনি আগে দু’বার যাঁকে পরাজিত করেছেন, সেই প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন। সেই সুযোগ এড়াতেই তাঁকে নন্দীগ্রামের আসন ছাড়তে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু আরও বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ হাসিরানি রথকে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।