উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করল কুলতলি ব্লকপ্রশাসন। ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বজ্র বিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের মোকাবিলায় উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে মাইকিং করে প্রচার। পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে খোলা হয়েছে একাধিক কন্ট্রোল রুম।

পাশাপাশি, প্রস্তুত রাখা হয়েছে ব্লক বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদেরও।
কুলতলির কৈখালী, দেউলবাড়ি, কাঁটামারি, মৈপীঠ গঙ্গার ঘাট, কিশোরীমোহনপুর,জামতলা বাজার-সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বাজারে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। কুলতলি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের উদ্যোগে এবং ব্লক বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই প্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্যোগের সময় যাতে কোনওভাবেই প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।সম্ভাব্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে এমপিসিএস (MPCS) কেন্দ্রগুলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ব্যবহারের উপযোগী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে আশ্রয় কেন্দ্র গুলিতে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
একাধিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।সুন্দরবনের উপকূলবর্তী কুলতলির বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ জীবিকার জন্য নদী, খাঁড়ি ও সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল।ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবী এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার, অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে।সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কুলতলি ব্লক প্রশাসন। দুর্যোগের আগে থেকেই সতর্কতামূলক প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় তৎপর প্রশাসন।