পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রের সরকার আবাস যোজনাসহ ১০০ দিনের কাজ এবং অন্যান্য প্রকল্পের কয়েকশো কোটি টাকা দেয়নি। তবুও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কিছু মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। এরপরেও দেখা যাচ্ছে টাকা পেয়েও অনেকে বাড়ি তৈরি করেননি। টাকা পেয়েও এখনও অনেকে ঘরে হাত দেয়নি! এই অভিযোগ নবান্নে জমা পড়ছে ভুরি ভুরি। কারা টাকা পেয়েও এখনও বাংলার বাড়ি প্রকল্পে হাত দেয়নি তাদের খুঁজে বার করার জন্য প্রতিটি জেলা শাসকদের নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।
মুখ্য সচিবের নির্দেশ পাওয়ার পরই জেলার আধিকারিকরা এবার কোমর বেঁধে ময়দানের নামবে বলে মনে করা হচ্ছে।এবার সরাসরি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামছে জেলার আধিকারিকরা। সোমবার বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।আরও পড়ুন:
১২ লক্ষ উপভোক্তাকে টাকা দেওয়া সত্ত্বেও ঘরের কাজ থমকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছেড়েছে রাজ্য সরকার। এবার প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। তবে নবান্নের রিপোর্ট বলছে, অনেকেই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর লিন্টেন পর্যন্ত ঘর তৈরি করতে পারেনি।
আর কেউ কেউ তো ঘরের কাজে হাতই দেয়নি।এমতাবস্থায় সোমবার এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বৈঠকের রিপোর্টে দেখা যায় যে, প্রায় ৭২ শতাংশ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই লিন্টেন পর্যন্ত ঘর তৈরি করেছে। তবে বাকি ২৮ শতাংশ উপভোক্তা এখনও এই নির্মাণ কার্যে পিছিয়ে রয়েছে অনেকটাই।আরও পড়ুন:
রিপোর্ট বলছে, ১২,৪৪২ জন উপভোক্তা এখনও ঘরের কাজ শুরুই করেনি। এমনকি ৩১৫৪জন উপভোক্তা এখনও পর্যন্ত নির্মাণের কোনও সামগ্রী পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেনি।
এই তালিকায় সবথেকে পিছনে পড়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে ১,৬৩,৫৩৯ জন উপভোক্তার মধ্যে মাত্র ৮৩,০৭৩জন লিন্টেন পর্যন্ত ঘর নির্মাণ করতে পেরেছে।আরও পড়ুন:
আর এই অবস্থায় মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ঘর তৈরিতে বিলম্বের কারণ খুঁজে বার করতে হবে। এমনকি উপভোক্তাদের মধ্যে মনোবল বাড়ি তুলতে হবে। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে গিয়ে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে হবে এবং পিছিয়ে থাকা জেলার আধিকারিকদের আরও তৎপর হতে হবে। প্রসঙ্গত প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু উপভোক্তা জানিয়েছিলেন সরকারের টাকা ছাড়াও নিজেরা কিছু টাকা কাজে লাগিয়ে আর একটু ভালো বাড়ি তৈরি করবেন। সেই সুযোগ দিয়েছিল রাজ্য সরকার ।কিন্তু এর পরেও অনেকে বাড়ি তৈরি করেননি। কেন কাজ শুরু হয়নি সে বিষয়েও রিপোর্ট জানতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।