নির্বাচন কমিশন কলকাতা হাইকোর্টের কাছে প্রতিদিন অতিরিক্ত/সম্পূরক তালিকা প্রকাশের অনুমতি চেয়েছে, যাতে বিচারাধীন ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করার জন্য আরও বেশি সময় পান।নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন , ।“আমাদের জানানো হয়েছে যে শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।" ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ‘চূড়ান্ত’ তালিকা প্রকাশের পর থেকে কমিশন এ পর্যন্ত কেবল একটি অতিরিক্ত/সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করেছে, যা সোমবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে।যদিও ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি করেছিলেন, তালিকাটিতে মাত্র ১০ লক্ষ নাম ছিল, কারণ একটি স্পষ্ট অসাবধানতার কারণে বাকি মামলাগুলোর আদেশে বিচারকদের ই-স্বাক্ষর ছিল না।
এই ১০ লাখের মধ্যে কতজন ভোট দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন এবং কতজনের আবেদন বাতিল করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়; বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে এই হার প্রায় ৪১ শতাংশ।এখন পর্যন্ত বিচারাধীন ৬০.০৬ লক্ষ মামলার মধ্যে প্রায় ৩৫ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
“দ্বিতীয় তালিকাটি আজ শুক্রবার প্রকাশ করা হবে, তবে এতে কতগুলো নাম (প্রত্যাখ্যাত বা অনুমোদিত) থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়,” কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর কারণ হল, শুধুমাত্র সেই মামলাগুলোই অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যেগুলোর নিষ্পত্তি আদেশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ই-স্বাক্ষর থাকবে।যদি ৪১ শতাংশ নাম বাদ দেওয়ার হার বজায় থাকে, তাহলে এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৩৫ লক্ষ মামলার মধ্য থেকে অন্তত ১৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যাবে।তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর, বাদ পড়া ভোটার রাজ্যজুড়ে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালগুলিতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ১৫ দিন সময় পান।নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে,“বাদ পড়া ভোটারদের অনলাইনে অথবা সশরীরে এসডিও বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে, তাদের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্ট করা নথিপত্র জোগাড় করার জন্য সময়ের প্রয়োজন হবে।” সুতরাং, যদি তারা শেষ মুহূর্তে তাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারে, তাহলে ট্রাইব্যুনালের কাছে আপিল করা তাদের জন্য কঠিন হবে।দৈনিক অতিরিক্ত সম্পূরক/ তালিকা প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হয়, কারণ এর জন্য আদালতে জমা দেওয়া পূর্ববর্তী তফসিলটি সংশোধন করতে হবে।তাছাড়া, তালিকাটি প্রথমে হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যেখান থেকে তা আপলোড করার জন্য রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় — সুতরাং, দৈনিক প্রকাশের অর্থ হল আদালত থেকে দৈনিক ছাড়পত্র পাওয়া।
কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন,“বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী তৃতীয় তালিকাটি ৩ এপ্রিল প্রকাশ করার কথা রয়েছে । ” কিন্তু এতে ভোটারদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করার ক্ষেত্রে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে, কারণ ২৩শে এপ্রিলের প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার শেষ তারিখ ৬ই এপ্রিল। তাই, নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন অতিরিক্ত / সম্পূরক তালিকা প্রকাশের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের কাছে অনুরোধ করেছে।নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ মামলার নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে।