২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহারে রানাঘাটকে একটি পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে প্রশাসনিক সুবিধা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭টি নতুন জেলা গঠনের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে রানাঘাট অন্যতম। এই ঘোষণাকে ঘিরেই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক সুবিধা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে নদিয়া জেলাকে ভাগ করার দাবি উঠছিল। তবে নতুন জেলার নামকরণ নিয়ে একাংশের আপত্তি সামনে এসেছে।
অনেকের মতে, ‘নদিয়া’ নামটি শুধু একটি প্রশাসনিক পরিচয় নয়, এটি জেলাবাসীর আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পাশাপাশি ওপার বাংলার সঙ্গেও ‘নদিয়া’-র একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই নতুন নামকরণের ক্ষেত্রে এই আবেগের দিকটি গুরুত্ব পাওয়াই উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আগাস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম রানাঘাট জেলা গঠনের কথা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রানাঘাট ও কল্যাণী মহকুমা নিয়ে নতুন জেলা গঠিত হবে। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর ও তেহট্ট মহকুমা নিয়ে পুরনো নদিয়া জেলার কাঠামো বজায় রাখার ভাবনা রয়েছে। এর আগেই প্রশাসনিক সুবিধার জন্য নদিয়ায় দুটি পৃথক পুলিশ জেলা-রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর-গঠন করা হয়েছে।
রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন জেলা গঠন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শান্তিপুরের এক শিক্ষক গোপাল দাসের মতে , নামকরণের ক্ষেত্রে মানুষের আবেগকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেকের মত, প্রশাসনিক প্রয়োজনে জেলা ভাগ হতেই পারে, কিন্তু ‘নদিয়া’ নামটি বজায় রেখে ‘নদিয়া উত্তর’ ও ‘নদিয়া দক্ষিণ’ করা হলে তা আরও গ্রহণযোগ্য হবে।
অন্যদিকে, বিজেপি বিষয়টিকে ভোটের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে জনগণনার পর এমনিতেই প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। পাল্টা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মানুষের আবেগকে সর্বদা গুরুত্ব দেন এবং এই ক্ষেত্রেও সেই দিকটি বিবেচনায় রাখা হবে।