পুবের কলম, কলকাতা: সোমবার মধ্যরাতে চুপিসারে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের প্রথম তালিকা প্রকাশের পর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছে কমিশন। তালিকায় কতজন যোগ্য ভোটার? বাদের তালিকায় কারা? ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উত্তর নেই কমিশনের। তাহলে কি ইচ্ছাকৃত কিছু আড়াল করার চেষ্টা? প্রশ্ন উঠছেই। কারণ যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে একটা বিষয়েই নজর যাচ্ছে—বাদের তালিকায় সিংহভাগ মহিলা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।
বাছাই করে নাম বাদ—এই অভিযোগ এসআইআরের প্রথম পর্ব থেকেই করে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চূড়ান্ত তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশের পরও স্পষ্ট হয়েছিল একটিই সমীকরণ, ‘টার্গেট সংখ্যালঘুরা!
সংখ্যালঘু প্রভাবিত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার ৫ নম্বর বুথে ৩৪০ জন বিচারাধীন ভোটার ছিলেন। তালিকা প্রকাশের পর সকলেরই নাম বাদ পড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সকলেই মুসলিম। হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রামের মহম্মদপুরের ৬৩ নম্বর বুথে ৭৯ জন বাদ পড়েছেন। সকলেই মুসলিম। এর মধ্যে ৩৩ জন মহিলা। এখানেই শেষ নয়। খাস কলকাতায় এন্টালির ১ নম্বর বুথে বাদ যাওয়া ৮৪ জনের মধ্যে ৫৪ জনই মহিলা। কেতুগ্রামে ৭৯ নম্বর সংখ্যালঘু প্রভাবিত বুথে ৩৬৮ জনের নাম বাতিলের তালিকায় রয়েছে। নাকাশিপাড়া মাঝেরগ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০ নম্বর বুথে ১৬০ জনের নাম বাদ পড়েছে। তার এক বড়ো অংশ সংখ্যালঘু। হাসন বিধানসভার বাঁধখালা গ্রামের ৪৫৬ জন মুসলিম ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি বুথেই বাদ পড়েছেন ২২৭ জন।