পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোটের আগে কখনও এসআইআর, কখনও জ্বালানি সঙ্কট, এই দুই ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিকেই সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে গতি বাড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ময়নাগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং নকশালবাড়ির সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলেই মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে।
তাঁর দাবি, এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে এনআরসি চাপিয়ে দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হতে পারে।এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এসআইআরের কারণে ৮৫ বছরের বৃদ্ধাদেরও লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আপনারা এ দেশের নাগরিক কি না। স্বাধীনতার সময় কোথায় ছিলেন—এই প্রশ্নও করা হচ্ছে। বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব তো তখন জন্মই নেয়নি, অথচ আজ আমাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে।”আরও পড়ুন:
সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, “মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একসময় এই মধ্যরাতেই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, যা আমাদের গর্ব।
আর এখন সেই সময়েই মানুষের সাংবিধানিক অধিকারকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কালই হয়তো বলা হবে এনআরসি করা হবে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা মেনে নেবে না।”আরও পড়ুন:
এসআইআর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, এই ইস্যুতে রাস্তায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, তালিকায় নাম ওঠা মানুষের জয়, কোনও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিটি ভোটকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ডাক দেন তিনি। ভোটের দিন সকাল থেকেই বুথে বুথে পাহারায় থাকার জন্য বিশেষভাবে মহিলা ভোটারদেরও আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।