উত্তর প্রদেশে উদ্বেগজনক হারে বি আর আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং কিছু পর্যবেক্ষক এটিকে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলিত ভোট পাওয়ার জন্য দলগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করছেন।শুধু মার্চ মাসেই দলিত আইকনের অন্তত চারটি মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সোমবার রাতে মিরাট জেলার ভগবানপুর গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা একটি মূর্তির শিরশ্ছেদ করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটির উন্মোচন হওয়ার কথা ছিল।
গ্রামবাসীদের একাংশ দাবি করেছে, এটি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কিছু উচ্চবর্ণের লোকের কাজ।তবে, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত নেতা ঋষিপাল ভান্ডারি বলেন, “৩০শে মার্চ একজন বিজেপি নেতার মূর্তিটি উন্মোচন করার কথা ছিল। কিন্তু যারা গ্রামে এটি চায়নি, তারাই
এর অবমাননা করেছে।

আমরা পুলিশকে জানিয়েছি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় আছি।”
গ্রামবাসী আনন্দ পাল সাংবাদিকদের  বলেন, স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। “দলিতদের মন জয় করার চেষ্টায় কিছু হিন্দুত্ববাদী নেতা এটি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অন্য একটি দল এটির ক্ষতি করে। হামলাকারীরা আম্বেদকরকে পছন্দ করত না এবং যারা এটি উন্মোচনের পরিকল্পনা করেছিল, তাদেরও অপছন্দ করত।”
আনন্দ পাল বলেন, গ্রামে এমন গুজব ছিল যে, বিজেপি যাতে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য আম্বেদকরকে ব্যবহার না করে, সেই কারণে কিছু লোক  নিজেরাই মূর্তিটি ভাঙচুর করেছেন। মঙ্গলবার বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী মূর্তিটির কাছে জড়ো হয়ে ধর্না দেন।
২২ মার্চ ইলাহাবাদ জেলার রতৌরা গ্রামে কিছু লোক আম্বেদকরের একটি মূর্তি ভেঙেছে।
স্টেশন হাউস অফিসার সঞ্জয় কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
বহুজন সমাজ পার্টির নেতা নীরজ পাসি বলেছেন: “পুলিশ এই ধরনের ঘটনাকে গুরুত্ব দেয় না। সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ক্ষুব্ধ দলিতরা ধর্না দেয়, ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সরকারও এই ধরনের ঘটনা খুব দ্রুত ভুলে যায়।”
২০ মার্চ গাজিপুর জেলার ডিল্লা গ্রামে আম্বেদকরের আরেকটি মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। অপরাধীরা এখনও শনাক্ত হয়নি।
১৪ মার্চ, লখিমপুর খেরি জেলার পিপারা মারোদা গ্রামে একটি মূর্তি ভাঙা হয়েছিল ।বিপিন কুমার নামে এক গ্রামবাসী বলেন, “পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু গ্রামের সবাই তাদের চেনে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি না, কারণ তারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে। পুলিশ নিজেদের ইচ্ছায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।”
লখনউয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, আগে উচ্চবর্ণের লোকেরাই দলিত আইকনের মূর্তিতে হামলা চালাত। “তবে, এখন বেশ কয়েকটি দল তাদের দলিত ভোটব্যাঙ্ক ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা করছে। এই নিরাপত্তাহীনতা থেকেই তারা উচ্চবর্ণ-ভিত্তিক দলগুলোর পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে এবং দলিত ভোটের বিভাজন ঠেকাতে আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙচুর করছে।  ”