পুবের কলম, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিতে বিজেপির প্রতীক ‘পদ্মফুলের’ ছাপ দেখা যাওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম X-এ পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেন, “এই কারণেই বিচারব্যবস্থার কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমনটা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের রায়েও রাজনীতির ছাপ দেখা যাবে।”এর আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করে আসছে যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির ‘বি টিম’-এর মতো আচরণ করছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে এই চিঠির প্রসঙ্গ তুলে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৯ সালের একটি চিঠি, যা দিল্লি থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠির নিচে ‘ভারতীয় জনতা পার্টি, কেরালা’ লেখা এবং পদ্মফুলের সিলমোহর স্পষ্ট দেখা যায়।
তবে এই ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এটি একটি ‘ক্লারিক্যাল এরর’ বা করণিক ত্রুটি। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্প্রতি বিজেপির কেরালা শাখা ২০১৯ সালের প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা নিয়ে জানতে চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই আবেদনের সঙ্গে দেওয়া পুরনো নথির কপিতেই বিজেপির সিল ছিল, এবং নজরদারির অভাবে ভুল করে সেই কপিটিই অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে পাঠানো হয়।
যদিও কমিশন বিষয়টিকে ভুল বলে ব্যাখ্যা করেছে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। তাদের মতে, এটি কেবল ‘কেরানির ভুল’ নয়, বরং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। ফলে, কীভাবে এমন ভুল ঘটল, তা নিয়ে বিতর্ক এখনো