উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : জয়নগর মজিলপুর পৌর এলাকার উন্নয়নের কারিগর প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরখেলের জীবনাবসান হল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়।এলাকায় শোকের ছায়া। দীর্ঘ দিন বার্ধক্য জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন প্রশান্ত সরখেল।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জয়নগর রাধাবল্লভ তলার নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হল। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৫ বারের কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা কুড়ি বছর ও ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মোট ২৫ বছর জয়নগর মজিলপুর পৌরসভা চেয়ারম্যান ও সাতবারের কংগ্রেসের কাউন্সিলার ছিলেন।

তিনি সামলেছিলেন কংগ্রেসের একাধিক পদ। কলকাতার মহাজাতি সদনে কর্মজীবনের পাশাপাশি কংগ্রেস ঘরনার রাজনীতি সামলেছেন।

জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র সহ বহু নামী দামি ব্যক্তিত্বদের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিলো। তার হাত ধরে জয়নগর মজিলপুর টাউন এলাকার একাধিক অফিস, ব্যাংক এলআইসি অফিস, শিবনাথ শাস্ত্রী সদন,আমন্ত্রণ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। তার হাত ধরে পৌরসভা সহ একাধিক সরকারি জায়গায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পৌর এলাকার একাধিক উন্নয়ন মূলক কাজে তার অবদানঅনেক।

যেকোনো প্রয়োজনে সবার পাশে থেকেছেন সবার প্রিয় এই গোপাল সরখেল।

শুক্রবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন জেলা পরিষদ সদস্য খান জিয়াউল হক। এদিন সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে শববাহী শকটে অন্তিম যাত্রায় পা মেলালেন ছোট থেকে বড় সব ধরনের মানুষ। এ দিন তার মরদেহ তাঁর রাধাবল্লভ তলার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাধাবল্লভের মন্দির হয়ে জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস, পৌরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার, ভাইস চেয়ারম্যান রথীন কুমার মন্ডল সহ একাধিক কাউন্সিলার, পৌর কর্মী,সাধারণ মানুষ,চিকিৎসক সহ সর্বস্তরের মানুষ। এর পরে মরদেহ জাতীয় কংগ্রেসের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাল্যদান করেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তপন মন্ডল, সুজিত পাটোয়ারী, শেফালি চক্রবর্তী,তারিক আনোয়ার, প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রশান্ত সরখেলের ভাইপো সুজিত সরখেল সহ বহু কংগ্রেস নেতৃত্ব সহ সাধারণ মানুষ।

এখান থেকে মরদেহ জয়নগর উওর পাড়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্লাব হয়ে যোগী মিত্র শ্মশান ঘাটে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এদিন যোগী মিত্র শ্মশান ঘাটে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চ্যাটার্জি সহ আরো অনেকে। এদিন শোকস্তব্ধ অবস্থায় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন,আমরা একজন ভালো মানুষকে হারালাম।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যা সমাধানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন।তাঁর এই মৃত্যুতে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল।তার আত্মার শান্তি কামনা করি। এদিন শোকস্তব্ধ হয়ে জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস বলেন, আমরা অভিভাবকহীন হয়ে গেলাম। তিনি একজন কংগ্রেসের নেতা হয়েও সমাজের সবার পাশে থেকেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রখর রোদ উপেক্ষা করে আমার হয়ে প্রচার করেছিলেন। তার অবদান কখনো ভুলবো না।তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।