পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিল্পাঞ্চল। এই গণআন্দোলনের নেপথ্যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন যোগী আদিত্যনাথ সরকারের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৩৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে চারজনকে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে নয়ডা ও মিরাট থেকে আটক করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পাক জঙ্গিদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে দাবি পুলিশের।
শ্রমিকদের এই বিক্ষোভকে ‘দেশদ্রোহিতা’র তকমা দিয়ে শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি বাঁধানো হয়েছে। তাঁর কথায়, "বিক্ষোভের আসল উদ্দেশ্য রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করা।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয় এবং এতে কোনো স্বচ্ছতা নেই। উভয় স্তরের শ্রমিকদের একই হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে, যা অন্যায্য। বহু পুরনো কর্মীকে ছাঁটাই করে কম বেতনে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। সোমবারের ব্যাপক গোলমালের পর মঙ্গলবার সকালেও নয়ডার সেক্টর ৮০ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘আহুজা’ কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সরাতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার প্রায় ৪০-৪৫ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে পড়ায় নয়ডার শিল্পাঞ্চলগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় কয়েক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকেন নিত্যযাত্রীরা। যদিও বর্তমানে পুলিশি টহলদারিতে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে এলাকা এখনো থমথমে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরই রাজ্য সরকার ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের একই হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অন্যায্য। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন কাজ করানোর পর ছাঁটাই করে নতুন কর্মী নিয়োগের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। প্রশাসনের মতে, বেতন বৃদ্ধিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোই এই অশান্তির মূল কারণ। অন্যদিকে, রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভের পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এবং বাইরের প্রভাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।