পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের এগারোজন প্রার্থী এখনও ভোটার তালিকায় আছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।এই মনোনীতদের মধ্যে নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা , রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী মহম্মদ গোলাম রাব্বানি , হুগলির চণ্ডীতলা থেকে তিনবারের বিধায়ক স্বাতী খন্দকার এবং বীরভূমের প্রভাবশালী নেত্রী কাজল শেখ ওরফে ফয়জুল হকসহ আরও অনেক মনোনীত প্রার্থী এখনও নিশ্চিত নন যে তাঁরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন কি না।
প্রার্থীদের মধ্যে তিনজন মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা, যেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১১ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।মুর্শিদাবাদের তিন প্রার্থী হলেন নওদার শাহিনা মমতাজ, শমসেরগঞ্জের নুর আলম এবং লালগোলার আবদুল আজিজ।নওদায়, নির্বাচন কমিশন তৃণমূল প্রার্থী মুমতাজসহ ২৯,১২১ জন ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লালগোলা ও শামশেরগঞ্জে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ১,০৮,৪০০ এবং ৯৯,০৮২।নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বাংলায় ৬.৪৪ কোটি ভোটারের নাম ছিল, অপরদিকে ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের ভোটার হিসেবে ভাগ্য নির্ধারণ করবেন এই প্রক্রিয়ার জন্য নিযুক্ত ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা।


কমিশন শুক্রবার কিংবা  সোমবার গভীর রাতে অতিরিক্ত  তালিকার দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশ করতে পারে।অতিরিক্ত  তালিকার প্রথম দফা প্রকাশের পর পাঁচ দিন কেটে গেলেও, এই প্রক্রিয়া শেষে কতজন ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি।
২৯৪টি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটির জন্য বুথভিত্তিক প্রকাশিত তথ্য এখনও সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বাতিল ও অনুমোদিত ভোটারের সংখ্যা নিয়ে কোন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৩৬ লাখ মামলার মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে।রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক ভোটার এখনও নিশ্চিত নন যে ভোটার তালিকায় তাদের নাম আছে কি না।
শশী পাঁজা  সাংবাদিকদের  বলেন,"আমাকে এটা লিখিত আকারে দেখতে হবে। কেউ যদি আমাকে বলে যে ভোটার তালিকায় আমার নাম আছে, সেটাও যথেষ্ট হবে না ।

বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার দাবি করেছেন যে ৫০ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নির্বাচনী প্রচারে রওনা হওয়ার আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ,“নির্বাচিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ৫০০ জন ভোটারের মধ্যে ৪০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বসিরহাটের একটি বুথে প্রায় ৬০০ জন নির্বাচকের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কারা এটা করেছে? মানুষ অবশ্যই এর উত্তর চাইবে,” 
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, সর্বোচ্চ আদালত কমিশনকে  অতিরিক্ত  তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
মমতা বলেন,“আমরা এখনও প্রথম সেই  তালিকাটি পাইনি। এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
এটা গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেয়ে কম কিছু নয়। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক,” ।
মমতা বলেছেন, বেশ কয়েকটি পরিবারে প্রতি পাঁচজন সদস্যের মধ্যে মাত্র একজনকে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন ,“নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়গুলো থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।"
তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কোন প্রার্থীর নাম বাদ পড়লে কী করা হবে, সে বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।“
সর্বোচ্চ আদালত কমিশনকে উভয় পর্বের মনোনয়নের শেষ তারিখ, অর্থাৎ ৬ ও ৯ এপ্রিলের মধ্যেই অতিরিক্ত  তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আগামী ২৩শে এপ্রিল ও ২৯শে এপ্রিল বাংলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।