পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলায় ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত ‘মেরকাভা’ ট্যাংকগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিভিন্ন সামরিক সূত্র ও প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে বহু আধুনিক ট্যাংক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
 
হিজবুল্লাহর দাবি, একদিনেই অন্তত ২১টি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে এবং কয়েক দিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের দেবেল, আল-কানতারা ও তাইবে অঞ্চলে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে।

এসব হামলায় ড্রোন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একটি মেরকাভা ট্যাংক তৈরি করতে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় লাগে। বিপরীতে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই ট্যাংকগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলে এটি এক ধরনের কম খরচের আক্রমণ বনাম বেশি খরচের প্রতিরক্ষার লড়াই হিসেবে সামনে এসেছে, যা ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
 
সীমান্তে সরাসরি সংঘর্ষেও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে ইসরায়েলের এক তরুণ সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের একটি শহরে এক বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আবাসিক এলাকায় রকেট পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা একদিনেই ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডারে পাল্টা আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাত ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, যেখানে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি ট্যাংক বাহিনী বড় ধরনের চাপে পড়েছিল।