পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে ইসরায়েলের আকাশে “ক্ষেপণাস্ত্রের আলো ছাড়া আর কোনো আলো থাকবে না।” এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই ইসরায়েলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা নোগা এনার্জি-র প্রধান নির্বাহী শৌল গোল্ডস্টেইন। তিনি জানিয়েছেন, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে দেশের অবকাঠামো ও জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে এই বিদ্যুৎ নির্ভরতা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।

কারণ, ইরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে আঘাত এলে তারা পাল্টা আক্রমণে ইসরায়েলের তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে।
 
তাসনিম নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখন নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে তাদের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা। সেই লক্ষ্য অনেকটাই সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান আরও উন্নত ও জটিল অস্ত্র ব্যবহার করে এমন সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, যা আগে অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল না।
শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙা নয়, বরং তা পুনর্গঠনের সক্ষমতাও নষ্ট করে দেওয়াই এখন তাদের লক্ষ্য।
 
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল মূলত দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করার পরিকল্পনার অংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবেও কাজ করছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।