পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' বিদায় নিলেও ওড়িশার বিস্তীর্ণ অংশে এখনও তার রেশ রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে গঞ্জাম এবং গজপতি জেলার অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি গঞ্জাম ও গজপতি জেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।
মুখ্যসচিব অনু গর্গ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। তবে একটানা বৃষ্টি এবং মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হলেই হেলিকপ্টার নামানো হবে। এর মধ্যেই রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নৌকা নিয়ে জলবন্দি মানুষদের উদ্ধারে নেমে পড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঞ্জাম জেলার ধরকোট, সনাখেমুণ্ডী, সুরাডা এবং পত্রপুর ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম জলের তলায় চলে গিয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে অন্তত দু'হাজার মানুষ আটকে আছেন। শুধু ধরকোটের চারটি জায়গা থেকেই হেলিকপ্টারে করে ১২০ জনকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রুত উদ্ধারের জন্য গঞ্জামে অতিরিক্ত দল পাঠানো হয়েছে, এবং এখনও পর্যন্ত ১১ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
গঞ্জামের ঋষিকুল্লা এবং গজপতির বামসাধারা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, ফলে লোকালয়ে জল ঢুকে পড়েছে। উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। চেন্নাই-হাওড়া রেলপথে ইচ্ছাপুরম এবং ঝড়ুপুরী স্টেশনের মাঝে লাইন জলে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, গঞ্জাম-গজপতি জেলার সীমানায় ৩২৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামায় যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে ছত্তীসগঢ়ের দিকে সরে গেলেও, আবহাওয়া দপ্তর ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সুন্দরগড়, ঝরসুগুড়া এবং বরগড় জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং আরও আটটি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।