পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলেও সঠিক সময়ে নেওয়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জেরে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার। আপাতত আর কোনও দুশ্চিন্তার কারণ নেই এবং সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলায় হিমবাহ ধসে শিন্তাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায়। এর জেরে রাতের অন্ধকারে গাসা তশাচু অঞ্চলের বহু বাড়িঘর হড়পা বানে ধ্বংস হয়ে যায়।

এই হিমবাহ হ্রদ বা গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড-এর কারণে ওই হ্রদের বিপুল জলরাশি ভুটানের মফু নদী হয়ে সংকোশ নদীর দিকে নেমে আসছিল। ফলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় বড়সড় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি আঁচ করেই ভুটান সরকারের তরফে বাংলা ও অসম প্রশাসনকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সেই মতো আলিপুরদুয়ারের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে তড়িঘড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের জন্য খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করে প্রশাসন।

শুক্রবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগে এই বিষয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সারারাত ধরে পুলিশ সুপার, মন্ত্রী ও বিধায়করা কাজ করেছেন এবং নবান্নের কন্ট্রোল রুমও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছিল। সংকোশ নদী আপাতত বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। যাঁদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের সকলের সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। অন্তত ৪৭ জন সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের তৎপরতায় কোনও বড় বিপদ ঘটেনি।