পুবের কলম, মাদ্রিদ: স্পেনে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের মর্মান্তিক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৮ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন আনুমানিক ১০০ জন যাত্রী। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বুধবার রাতে রাজধানী মাদ্রিদে পরিবহন মন্ত্রকের বাইরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ। পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, বুধবার মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াগামী একটি রেনফে হাই-স্পিড ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ইরিও ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
মাদ্রিদে পরিবহন মন্ত্রকের সামনে জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীরা মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে ছিল “দূর হোন!”, “অপরাধী” এবং “দুর্নীতিই মৃত্যুর কারণ”-এর মতো বিভিন্ন পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিলে কিছু আন্দোলনকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ফ্লেয়ার ছুড়তে শুরু করেন, যার জবাবে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়ে টিয়ার গ্যাস প্রয়োগ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। এদিকে স্পেনের ট্রেড ইউনিয়ন ‘সিএসআইএফ’-ও পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে।
ইউনিয়নের অভিযোগ, মন্ত্রী নিজের ঘাড় থেকে দায় নামিয়ে তা রেল আধিকারিকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, মাদ্রিদ ও সেভিয়ার মধ্যকার ৬৩ কিলোমিটার ট্র্যাকে রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছিল। ওই ত্রুটির ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই এলাকার সমস্ত ট্রেন থেমে যায়। এরপর রেল অবকাঠামো পরিচালনকারী সংস্থা ‘আদিফ’ ম্যানুয়ালি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয়। মন্ত্রী স্বীকার করেন, সামনে অন্য একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা এবং লাল সিগন্যাল সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও রেনফে ট্রেনটিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে সবটা খতিয়ে দেখা হবে।