পুবের কলম, নয়াদিল্লি: চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের আশানুরূপ ফল না হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কটাক্ষের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র আক্রমণ শাণাল হাত শিবির। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসী এবং আরএসএস-এর সদর দফতর নাগপুরে বিজেপির ভরাডুবির ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রী কবে দেবেন? এক্স-এ জয়রাম রমেশ বলেন, বিরোধী দলকে জ্ঞান দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর উচিত নিজের দলের নির্বাচনী ব্যর্থতাগুলি খতিয়ে দেখা। বারাণসী, নাগপুর, লখনউ, প্রয়াগরাজ এবং পাটনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে জনগণের এই রায় বর্তমান সরকারের অনীতি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট গণপ্রত্যাখ্যান।

রমেশের কথায়, "মোদিজি, ট্রলিং বন্ধ করুন। নিজের অহংকার ছেড়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং নিজের রাজনৈতিক দুর্গে বিজেপির হারের কারণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করুন।" ইভিএম প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেস চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, ইভিএম নিয়ে কোনো কারচুপি না হয় এবং প্রধানমন্ত্রী যদি বিজেপির শক্তিতে এতটাই আশ্বস্ত হন, তবে আগামী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলি কাগজের ব্যালট পেপারে করিয়ে দেখান।
 
চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে বিজেপি ও তার শরিক দলগুলি ১৬টি আসনে জয়ী হলেও, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে দুটি আসনেই জয়ী হয়েছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (সপা)।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের নাগপুর গ্র্যাজুয়েট আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মহা বিকাশ আঘাড়ি সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ওয়ানজারি। নাগপুরের এই জয় কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নাগপুর আরএসএস-এর কেন্দ্রীয় সদর দফতর হওয়ার পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের নিজস্ব শহর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির লোকসভা কেন্দ্র। জয়ের পর কংগ্রেস প্রার্থী ওয়ানজারি বলেন, "বিজেপি এই একটি আসন জিততে বিশাল অনুদান ও তাদের হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতাদের নাগপুরে নামিয়েছিল। কিন্তু মানুষ সততার পক্ষে রায় দিয়েছে।" ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা হর্ষবর্ধন সকল এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, "বিভাজনের বেলুন ফেটে গেছে; ঘৃণার রাজনীতি পরাজিত হয়েছে।"