ইরান যুদ্ধের সময় ভারতে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, দেশে সারের ঘাটতি ও রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হবে বলে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। এই প্রচারের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল দেশকে অস্থির করে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে বদনাম করা। শুক্রবার গুজরাটের বনসকাঁটায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই অভিযোগ করেন তিনি।

এদিন বনসকাঁটায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় একের পর এক গুজব ছড়িয়ে দেশের কৃষকদের মনে সারের অভাব নিয়ে ভয় তৈরি করা হয়েছিল। একইভাবে, রান্নার গ্যাস পাওয়া যাবে না বলে মা-বোনেদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়। মোদির অভিযোগ, এই সব প্রচারের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বদনাম করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। তাঁর কথায়, “আমি বলেছিলাম, মোদি আপনাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।

সেই যুদ্ধ আজও চলছে, কিন্তু মোদি সরকার কোথাও কোনও ঘাটতি হতে দেয়নি।” দেশের কৃষক ও মহিলাদের আশ্বস্ত করে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ সত্ত্বেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

সারের দাম ও সরবরাহের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধের প্রভাবে সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল এবং দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিন্তু সেই বাড়তি বোঝা ভারতীয় কৃষকদের উপর চাপতে দেয়নি তাঁর সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বস্তা সার যেখানে প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, ভারতে তা ৩০০ টাকারও কম দামে পাওয়া যায়।

একইভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিএপি সারের দাম বেড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা হলেও ভারতে কৃষকদের তা ১,৩৫০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সর্বশেষ কিস্তিতে দেশের প্রায় ১০ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং তাঁদের ক্ষমতায়নকে সরকার সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে কৃষিক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও কৃষকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র, এমনই দাবি মোদির। তবে ইরান যুদ্ধের সময় গুজব ছড়িয়ে দেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর তোলা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।