পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক সলমন রুশদির উপরে হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হাদি মাতারকে ২৫ বছরের জেলের সাজা শোনানো হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ মে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চৌতাকুউয়া কাউন্টি  আদালতের বিচারক ওই সাজা শুনিয়েছেন। যদিও সাজা ঘোষণার সময়ে নির্বিকার ছিলেন ২৭ বছর বয়সী হাদি মাতার।

২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম নিউইইয়র্কে এক অনুষ্ঠান চলাকালীন বিতর্কিত লেখক সলমন রুশদির উপরে প্রাণঘাতী হামলা চালায় নিউ জার্সির বাসিন্দা হাদি মাতার। অতর্কিতে মঞ্চে উঠে গিয়ে ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর স্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

ছুরির উপর্যুপরি আঘাতে মঞ্চেই লুটিয়ে পড়েছিলেন বুকারজয়ী ব্রিটিশ লেখক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুশদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা বেশ কয়েকদিন যমে-মানুষে টানাটানি চলে। বেশ কয়েকদিন ভেন্টিলেশনেও রাখা হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে উঠলেও হামলার ফলে একটি চোখে দৃষ্টি হারান ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর লেখক।
অকেজো হয়ে যায় তাঁর একটি হাতও।

১৯৮৮ সালে ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাস লিখে মুসলিম মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন তিনি। বিতর্কিত এই উপন্যাসের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ইরানের ধর্মীয় নেতা খোমেইনি ‘মৃত্যু ফতোয়া’ জারি করেছিলেন। অজস্র বার খুনের হুমকি পেয়েছিলেন রুশদি। হামলার ভয়ে প্রায় ন’বছর আত্মগোপন করতে হয়েছিল তাঁকে।

উপন্যাস লেখার প্রায় ৩৫ বছর পর আমেরিকার মঞ্চে তাঁর উপর হামলা হয়।

শুধু রুশদি নন, ওই দিন মঞ্চে সঞ্চালক হিসাবে দায়িত্ব পালন হেনরি রিসকেও আক্রমণ করেছিল হাদি মাতার। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে রুশদি জানান, ‘আচমকা এক যুবককে তাঁর দিকে ছুটে আসতে দেখেন তিনি। তাঁর চোখগুলি ছিল ‘অন্ধকার’ এবং ‘হিংস্র’। মোট ১৫ বার তাঁকে কোপ মারা হয়।’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই একাধিক অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় হামলাকারী হাদি মাতারকে। যে যে ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তাতে ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত বলে মনে করছিলেন আইনজীবীরা।