পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: তিন দিন আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মহেশতলার রবীন্দ্রনগরের আক্রা সন্তোষপুর এলাকা। উত্তেজনার আবহে এবার বদল করা হল রবীন্দ্রনগর থানার আইসিকে। রবীন্দ্রনগর থানার আইসি মুকুল মিঁয়াকে দার্জিলিংয়ের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ করে পাঠানো হল। তাঁর জায়গায় রবীন্দ্রনগর থানার আইসি-র দায়িত্ব নিচ্ছেন মালদহের রতুয়ার সার্কেল ইন্সপেক্টর সুজনকুমার রায়।
আরও পড়ুন:
শুধু রবীন্দ্রনগর থানার আইসি বদল নয়, মহেশতলার এসডিপিও-কেও বদল করা হল। মহেশতলার এসডিপিও কামরুজ্জামান মোল্লাকে স্টেট আর্মস পুলিশের থার্ড ব্যাটেলিয়নে পাঠানো হল। তাঁর জায়গায় মহেশতলার এসডিপিও হয়ে আসছেন সৈয়দ রেজাউল করিম। উনি রাজারহাট পুলিশ স্টেশনের আইসি ছিলেন।
আরও পড়ুন:
বুধবার দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে তপ্ত হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনগর। ইট ছোড়া হয়। বাইক পোড়ানো হয়। আক্রান্ত হন একাধিক পুলিশকর্মী। ইটের আঘাতে আহত হন এক মহিলা পুলিশকর্মীও। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বুধবার বাজার চলাকালীন কয়েকশো মানুষ আসে। আর তারপরই ভাঙচুর চালানো হয়। এখনও তার ছাপ স্পষ্ট।
সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে। লুঠ হয়েছে দোকান। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজনকে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে।আরও পড়ুন:
মহেশতলার রবীন্দ্রনগরের এই অশান্তির মূলে স্থানীয় বিজেপি নেতারা যুক্ত বলে অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এক সংখ্যালঘু ব্যক্তি সেখানে দোকান দিয়ে দীর্ঘদিন জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঈদের ছুটিতে কদিন বাড়িতে থাকায় সে জায়গায় ফুলের টপ দিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করে বিজেপির নেতাকর্মীরা। সেখানে একটি বেদিও তৈরি করে ফেলে। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাজার সমিতির মানুষজন।
কেননা একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রুজি রোজগারের জায়গাকে দখল করে নিয়ে বেদি তৈরি করা হয়। বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী জায়গাটি দখল করে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে বাজার সমিতির মানুষজন সরব হন। প্রশাসন ও তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের হস্তক্ষেপে এলাকায় শান্তি ফেরে বলে খবর। এরপর থেকে এলাকায় শান্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে মহেশতলা এলাকার নয়া এসডিপি আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন ।পুবের কলমকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তাঁর দফতর যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি যথাযথ পালন করার চেষ্টা করবেন। রাজারহাট নিউটাউন এলাকায় তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন আগামীতেও তাঁর দফতরের সুনাম রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অন্যায় করলে কাউকে বরদাস্ত করা হবে না, আইন শেষ কথা বলবে।