পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:বিকেভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটাল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় ফর্ম-৬ পূরণ করে আবেদন করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল কমিশন।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি দেখা যায়, অনেক পুরনো ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ফের ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু ফর্ম-৬ সাধারণত প্রথমবারের ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হয় যে তিনি প্রথমবার ভোটার হচ্ছেন।

এর ফলে পুরনো ভোটারদের মনে প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয় যে, এই ফর্মে সই করলে তা মিথ্যা ঘোষণার শামিল হতে পারে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, জেনেশুনে ভোটার তালিকায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার ফলে জরিমানা এমনকি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে। এই আইনি গেরোয় পড়ে অনেকেই ফর্ম জমা দিতে ভয় পাচ্ছিলেন।
সমস্ত সংশয় ও বিভ্রান্তি দূর করতে নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, বাদ পড়া পুরনো ভোটাররা এই ফর্মে আবেদন করলে তা কোনওভাবেই মিথ্যা ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে না। এই বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হবে না।
তবে কমিশনের তরফে একটি কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর নাম দেশের অন্য কোনও লোকসভা বা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থাকা চলবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুপ্রিম কোর্টও মহারাষ্ট্রের একটি মামলায় মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে, নাম বাদ পড়া কেউ ফর্ম-৬ জমা দিলে তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। এবার সেই বিষয়টিকেই আইনি সিলমোহর দিল কমিশন। সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় দূর করতে স্থানীয় ভাষায় এই বার্তার ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন সদন।