পুবের কলম, নয়াদিল্লি: গত জুলাই মাসে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশ চরম বেপরোয়া, অতিরিক্ত ও সংহিতাবহির্ভূত বলপ্রয়োগ করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো একটি ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এর প্রতিবেদনে। প্রাক্তন বিচারপতি ও প্রবীণ আধিকারিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছে, ২০ জুলাইয়ের সেই আন্দোলনে নির্ধারিত জনতা দমন নির্দেশিকা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অন্যায্যভাবে ব্যাপক হারে শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সরাসরি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিশেষত মুসলিম এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রমাণ মিলেছে।
 
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী তথা পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের সামাজিক সংগঠন ‘কনস্টিটিউশনাল কনডাক্ট গ্রুপ’ এই ট্রাইব্যুনালটি গঠন করে। প্যানেলে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অদিতি মেহতা, গোপাল কৃষ্ণ পিল্লাই, মোহন গোপাল, রাধা কুমার এবং তানিকা সরকার।

প্যানেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট সামাজিক কর্মী হর্ষ মান্দার।
 
প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই বলপ্রয়োগের আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো মধ্যস্থতা বা সতর্কবার্তা দেয়নি দিল্লি পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে নিয়মমাফিক ধাপভিত্তিক পদক্ষেপ—যেমন আবেদন, সতর্কীকরণ ও মৃদু পদক্ষেপের নিয়ম মানা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। এমনকি বেরোনোর পথ, রাস্তা এবং মেট্রো স্টেশন আচমকা বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিমভাবে পদপিষ্ট হওয়ার মতো চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে পুলিশ।
ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানায়, ২৪০ জনের বেশি পুলিশকর্মী আহত হওয়ার দাবি তুলে কোনোভাবেই নিরিহ ও সহিংসতায় অযুক্ত আন্দোলনকারীদের ওপর এই তাণ্ডবকে সমর্থন করা যায় না।
 
গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত দুই দিনের শুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ছাত্র, চিকিৎসক, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ ও আরএএফ বেশ কিছু জায়গায় পেরেক মারা লাঠি, ইলেকট্রিক রড এবং বন্ধ স্থানে মেয়াদকোত্তীর্ণ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। সেন্ট্রাল দিল্লির অন্তত ৪টি স্থানে আরএএফ সদস্যরা 'প্যালেট বন্দুক' থেকে ছররা গুলি ছুড়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে ইউনিফর্ম ছাড়া সিভিল পোশাকে থাকা কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে সাক্ষীরা জানিয়েছেন।