পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ‘যক্ষ্মা নির্মূল ভারত’ অভিযানে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে রাজ্যে ফের প্রথম স্থান অধিকার করল নদিয়া জেলা। জেলার মোট ১৮৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে গত বছর ৬০টি পঞ্চায়েত যক্ষ্মামুক্ত ছিল। চলতি বছরে সেই তালিকায় নতুন করে আরও ৩৮টি যুক্ত হয়ে যক্ষ্মামুক্ত পঞ্চায়েতের সংখ্যা ৯৮-এ পৌঁছেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ২০২৪ সালে দেশজুড়ে যক্ষ্মা নির্মূলের এই অভিযান শুরু হয়। প্রথম বছর নদিয়া রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, ২০২৫ সালে তারা প্রথম স্থান দখল করে।

এ বছরও নিজেদের সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জেলাটি। জেলা প্রশাসনের মতে, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, নিয়মিত চিকিৎসা, নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য মিলেছে। জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানিয়েছেন, প্রায় কুড়ি বছর আগে এই জেলায় যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি ছিল, যা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সাফল্যের নিরিখে পঞ্চায়েতগুলিকে তিনটি বিশেষ স্তরে ভাগ করেছে জেলা প্রশাসন। টানা তিন বছর নতুন করে কোনও যক্ষ্মা রোগীর সন্ধান না মেলায় ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ তকমা দেওয়া হয়েছে।
গত দু’বছর কোনও নতুন আক্রান্ত না থাকায় ৩৩টি পঞ্চায়েত ‘সিলভার স্ট্যান্ডার্ড’ এবং গত এক বছরে নতুন রোগীর সন্ধান না পাওয়ায় ৫০টি পঞ্চায়েত ‘ব্রোঞ্জ’ শ্রেণিতে জায়গা করে নিয়েছে।
জেলাশাসক জানিয়েছেন, যক্ষ্মার চিকিৎসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি। রোগের ধরন অনুযায়ী ন্যূনতম ছ’মাস থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত চিকিৎসা চলতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওষুধ শুরু করার কিছুদিন পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে রোগীরা নিজেদের ইচ্ছায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর ফলে ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে রোগ সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সঠিক পুষ্টির বিষয়ে সহায়তা করতে বর্তমানে জেলায় আড়াইশো থেকে সাড়ে তিনশো স্বেচ্ছাসেবক ‘নিক্ষয় মিত্র’ হিসেবে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।