পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বার্তার মাঝেই ফের একবার অশান্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশ। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন বস্ত্র শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আধাসেনা নামিয়েও হিমশিম খাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশের পালটা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বস্ত্র শ্রমিকরা ১২,৫০০ টাকা বেতন পান।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে এই টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব দাবি করে মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই ঢাকা লাগোয়া আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর এবং মিরপুরে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ ২৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। সোমবার সকালেও সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলিতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। এই প্রবল শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এই বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার রাতেই জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত বস্ত্রশিল্পের উপর নির্ভরশীল। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ আসে এই ক্ষেত্র থেকে। বছরে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের এই বাজারে কারখানা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাজে যোগ না দিলে বেতন বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মালিকরা।

তবে গোটা ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে তারেক সরকার। রবিবার রাতের বৈঠকের পর শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ডিসেম্বরের আগে বস্ত্রশিল্পকে অস্থির করার চেষ্টা চলছে। গত আগস্টে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বার্তা দিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের সন্দেহ, হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগে নিষিদ্ধ দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলিই এই বিক্ষোভ এবং নাশকতার নেপথ্যে রয়েছে। তবে শ্রমিকরা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের ন্যায্য দাবিকে কালিমালিপ্ত করতেই সরকার এই ধরনের মিথ্যে তত্ত্ব খাড়া করছে।