রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সভা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে বিরোধীদের ‘নকল সংসদ’ আয়োজন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে রাহুল গান্ধীকে আজীবন নকল সংসদেই থাকতে হবে। কারণ, আসল সংসদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তাঁর কোনও দিনই আসবে না। একই সঙ্গে গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে শাহ বলেন, গত ১৫ বছরে তিনটি নির্বাচনে পরাজয়ের পরও সোনিয়া গান্ধীর ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী করার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সেই কারণেই এই নকল সংসদের আয়োজন।
আরও পড়ুন:
রবিবার চণ্ডীগড়ে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই এক জনসভা থেকে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ করেন তিনি। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে শাহ বলেন, “আমি রাহুলকে বলতে চাই, যদি প্রধানমন্ত্রী হতে চান, তাহলে আজীবন নকল সংসদেই থাকুন। কারণ, আসল সংসদে সেই সুযোগ আপনার আর আসবে না।”
আরও পড়ুন:
রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সভা নিয়েও সরব হন শাহ।
১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আজ ১ নভেম্বর। ১৯৮৪ সালে এই দিনেই দিল্লিতে হাজার হাজার শিখকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আর আজ সেই দিনেই রাহুল রামলীলা ময়দানে জলসা করছেন। শিখ গণহত্যার বার্ষিকীতে রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করাকে দেশ কখনও ভুলবে না। এটা শিখ শহিদদের ক্ষতে নুনের ছিটে। এমন দিনে জলসা করলে আপনাদের ‘মহব্বতের দোকান’ থেকে ঘৃণা ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না।”আরও পড়ুন:
বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করে শাহ আরও বলেন, মিথ্যা বলা, অরাজকতা ছড়ানো এবং সংসদের কাজকর্মে বাধা দেওয়া বিরোধীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই মনোভাব বজায় থাকলে আগামী পাঁচ বছরও তাঁদের বিরোধী বেঞ্চেই থাকতে হবে। আগামী তিনটি নির্বাচনেও তাঁরা খাতা খুলতে পারবেন না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, নির্বাচনে কারচুপি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগের পালটা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি দেশে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করছে।