ইজরায়েলে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরোধিতা করে ফের বিক্ষোভে নামলেন কট্টরপন্থী ইহুদি সম্প্রদায় হারেদির সদস্যরা। রবিবার তেল হাশোমের এলাকায় ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। নতুন করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আসা হারেদি তরুণদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলেও স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন:
ইজরায়েলি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের জেরে তেল হাশোমের এলাকার একাধিক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনতা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়। পুলিশের তরফে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা হলেও তাঁরা ঘটনাস্থল ছাড়তে রাজি হননি।আরও পড়ুন:
পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বারবার আলোচনার চেষ্টা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সেখানে জমায়েত হতে থাকেন। পুলিশকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের উদ্দেশে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আসা তরুণদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
আরও পড়ুন:
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার প্রায় ২৩০ জন হারেদি পুরুষের আইডিএফে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
তাঁদের নিয়োগকে কেন্দ্র করেই তেল হাশোমেরের সেনা নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম কারণ। ২০২৪ সালে ইজরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ইয়েশিভা বা ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের সামরিক পরিষেবা থেকে সার্বিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এই রায়ের পর থেকেই হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, একাধিক রণাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালানোর কারণে আইডিএফের জনবল সংকটও ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হারেদি সম্প্রদায়ের তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ইজরায়েলিদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা ও রিজার্ভ ডিউটি পালন করতে হচ্ছে যাঁদের, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু রিজার্ভ সেনাকে কয়েকশো দিন পর্যন্ত সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ফলে একদিকে তাঁদের উপর বাড়তি চাপ, অন্যদিকে হারেদিদের নিয়োগে ছাড়—এই বৈষম্যের অভিযোগ ঘিরে ইজরায়েলের সমাজ ও রাজনীতিতে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আদালতের নির্দেশ, সেনাবাহিনীর জনবল সংকট এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে হারেদি সম্প্রদায়ের নিয়োগের প্রশ্নটি এখন ইজরায়েলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। তেল হাশোমেরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সেই উত্তেজনাকেই আরও সামনে নিয়ে এল।