উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বৃদ্ধিতে এবার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে চলেছে বন দফতর। এতদিন ম্যানগ্রোভ বনসৃজনে মূলত চারা রোপণের উপর নির্ভর করা হলেও এবার সেই পদ্ধতিতে বদল আনা হচ্ছে। চারা নয়, সরাসরি বীজ বপনের মাধ্যমে নতুন করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগ।এই বিশেষ বীজের নাম ‘প্রপাগিউল’।

বন দফতর সূত্রে খবর, এই কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে প্রায় এক কোটি প্রপাগিউল বপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।আগামী নভেম্বর মাস থেকেই এই কাজ শুরু হওয়ার কথা।আপাতত চলছে বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি।
সুন্দরবনের কুলতলি,বাসন্তী, মথুরাপুর-২, কাকদ্বীপ, সাগর ও নামখানা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।বীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোপণের কাজের দায়িত্ব বণ্টনের জন্য পুজোর আগেই দরপত্র আহ্বান করেছিল বন দফতর। সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়ির পাড়ে প্রায়ই নতুন নতুন চর জেগে ওঠে। এ ছাড়া বন দফতরের অধীনস্থ বিভিন্ন ফাঁকা জমিতেও ম্যানগ্রোভ বনসৃজনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
সাধারণত এই সমস্ত এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ গাছ না জন্মালে বন দফতরের উদ্যোগে চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু সেই চারা তৈরি করে রোপণের উপযুক্ত করে তুলতে বেশ কিছুটা সময় লাগে।সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়াতেই এবার সরাসরি প্রপাগিউল বপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বনকর্মীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে এমন একাধিক জমি চিহ্নিত করেছেন,যেখানে আগে কখন ও ম্যানগ্রোভ বনসৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বন দফতরের বিশেষজ্ঞদের আশা, এই নতুন পদ্ধতি সফল হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন জেগে ওঠা চর ও ফাঁকা জমিতে সবুজের আচ্ছাদন তৈরি হলে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।