পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সহিংস উপায়ে বা বেআইনি পন্থায় ক্ষমতার পরিবর্তনের ডাক দেওয়া বা তাতে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জন্য সরকারি চাকরির দরজা চিরতরে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। এই উদ্দেশ্যে সরাসরি নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ‘চরিত্র যাচাই’-এর নিয়মাবলি এক ধাক্কায় অনেকটাই কড়া করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘ব্রিটিশ আমলের ফরমান জারি করার’ তোপ দেগেছে।
আরও পড়ুন:
এলাহাবাদ হাইকোর্টের আদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে উত্তরপ্রদেশের নিয়োগ ও কর্মী বিভাগের প্রধান সচিব এম দেভরাজ এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন।
রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, নিগম, কাউন্সিল এবং স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হন বা যুক্ত থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো হিংসাত্মক উপায়ে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো, তবে তিনি সরকারি চাকরির জন্য সম্পূর্ণ 'অযোগ্য' বলে বিবেচিত হবেন।আরও পড়ুন:
রাজ্য সরকারের এই আদেশ সামনে আসতেই তা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। সপা মুখপাত্র উদয়বীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভারতে যখন ইংরেজদের শাসন ছিল, তখন ব্রিটিশরা এই ধরনের ঔপনিবেশিক ফরমান জারি করত।
কিন্তু স্বাধীন ভারতে আন্দোলন ও প্রতিবাদ করার অধিকার একটি সাংবিধানিক গ্যারান্টি। গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তন হয় নির্দিষ্ট আইনি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বর্তমান সরকার ভয় দেখানোর মানসিকতা নিয়ে চলছে বলেই আজ ব্রিটিশ আমলের রাজকীয় ফরমানের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।"আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেন, "যোগী সরকার নিজেই বিচারকের মতো আচরণ করছে। এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কি সরকারের নাকি দেশের আদালতের? এই ধরনের নির্দেশিকাই প্রমাণ করে যে জেন-জিদের গণআন্দোলনকে কতটা ভয় পাচ্ছে এই সরকার।"