দিল্লির মুস্তাফাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত ২৮ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের মৃত অথবা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, তাঁরা এখনও নিজেদের নথিভুক্ত ঠিকানাতেই বসবাস করছেন। দ্য হিন্দু সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মধ্যামাম অনলাইনের। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফর্ম-৭ ব্যবহার করে দয়ালপুর এলাকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ওই আবেদনগুলি জমা দেওয়া হয়।

তালিকায় রয়েছেন সাজিদ হুসেনের স্ত্রী ও ছেলেও, যাঁরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগের মুখে পড়া ভোটারদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়েছেন এবং তাঁদের নথিভুক্ত ঠিকানায় বসবাসের প্রমাণ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নথিতে বুথ নম্বর ১২৯-এ ২৮টি আপত্তির আবেদনকারী হিসেবে বিজেপি-নিযুক্ত বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ-২) চন্দ্রশেখর নৈনওয়ালের নাম উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের দাবি, তাঁরা ভোটার তালিকার গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন এবং খসড়া ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুস্তাফাবাদে এই ধরনের আপত্তির ঘটনা আরও বিস্তৃত।

গত ৩১ আগস্ট থেকে সেখানে মোট ৮৪৩টি আপত্তি জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৯৭টি আবেদন করেছেন তৃতীয় পক্ষ। অভিযোগ, এই মামলাগুলির ৯৬ শতাংশে আপত্তিকারী হিসেবে বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টদের নাম রয়েছে। ২৪টি পোলিং পার্টে মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্য করে ৫৭২টি আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

কিন্তু অভিযোগ, বিজেপির একাধিক এজেন্ট সেই সীমা অতিক্রম করেছেন। ১০ জন এজেন্ট ৩০টির বেশি করে ফর্ম জমা দিয়েছেন এবং আরও ৯ জন ২৫টির বেশি আবেদন করেছেন বলে দি হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিএলএ-২ এজেন্টদের নির্দিষ্ট শর্তে একাধিক আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তার জন্য যাচাই-সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। দ্য হিন্দু-কে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ঘোষণাপত্র পাওয়া যায়নি।

গত ৯ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা বা জাল ঘোষণাপত্র জমা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। খবর মাধ্যমাম