পুবের কলম, নয়াদিল্লি: টানা তিন সপ্তাহের তীব্র আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং পুলিশের হাতে একাধিক শিক্ষার্থীর লাঞ্ছিত ও আটক হয়েছিল। এবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশে সম্মত হওয়ায় অনশন প্রত্যাহার করল শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের সাথে এক ফলপ্রসূ বৈঠকের পর দীর্ঘ আন্দোলন চালানো শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছেন। গত ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়া ক্যাম্পাসে এই লাগাতার প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মে, ২০২৭ তারিখের মধ্যে জামিয়ার ছাত্র সংসদের নতুন সংবিধান রূপায়ণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ ১৬ জুলাই শুরু হওয়ার পর পরবর্তী ৬ সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে লিংডো কমিটির দেওয়া নির্দেশিকা ও সুপারিশ মেনেই। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সমস্ত অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
একই সাথে আগামী ২ নভেম্বর থেকে স্নাতকোত্তর এবং স্নাতক স্তরের সমস্ত অফলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, আন্দোলন চলাকালীন ভাঙচুরের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছে। প্রশাসনের সাথে আপস হলেও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর জামিয়া ইউনিটের প্রধান জিশান খান এবং মুহাম্মদ ফায়জান নামক দুই শিক্ষার্থীকে বৃহস্পতিবার ৩ দিনের জন্য তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে তাঁদের আটক করে আমোর কলোনি থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২৪ ঘণ্টা পর হাজির করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য বেগম হযরত মহল গার্লস হোস্টেলের এক ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।