পুবের কলম, নয়াদিল্লি: জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি ভর্তির প্রক্রিয়ায় তপশিলি জাতি (এসসি), তপশিলি উপজাতি (এসটি) এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ সংরক্ষিত আসন ব্যাপকভাবে ছাঁটাইয়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সংবিধানে নির্ধারিত এই সংরক্ষণ কোটা পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রলহাদ যোশীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন সিপিআই(এম)-এর লোকসভার সাংসদ কে রাধাকৃষ্ণন। গত ২৯ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে আলথুরের সাংসদ জানান, জেএনইউ প্রশাসন তাদের প্রকাশিত পিএইচডি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করেছে।

সাংসদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে জেএনইউ-তে মোট ৭১১টি পিএইচডি আসনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

সংবিধিবদ্ধ আসন বণ্টনের হিসেব এবং প্রকৃত বরাদ্দের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল তুলে ধরা হয়েছে। এসটিতে ৭.৫% আইনি সংরক্ষণ অনুযায়ী বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল ৫৩টি আসন, কিন্তু দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৮টি (১৫টি আসন কম)। এসসিতে ১৫% কোটা অনুযায়ী ১০৭টি আসন বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে ১০৩টি আসন (৪টি আসন কম)। সবচেয়ে বড় ছাঁটাই করা হয়েছে প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।
৫% কোটা অনুযায়ী ৩৬টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও তা কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ১৭টি (১৯টি আসন কম, যা প্রাপ্য আসনের অর্ধেকেরও কম)। রাধাকৃষ্ণনের দাবি, সামগ্রিকভাবে দলিত, আদিবাসী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ৩৮টি সাংবিধানিক আসন জেএনইউ-এর ভর্তি বিবরণী থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে কে রাধাকৃষ্ণন কড়া ভাষায় লিখেছেন, "ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্ব থেকে এভাবে বঞ্চিত করা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ প্রান্তিক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে পদ্ধতিগতভাবে বঞ্চিত করে।"