উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর : বারুইপুরের জনসভা থেকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিলেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে অভিষেক যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, আগামী নির্বাচনে তার থেকেও বেশি ভোটে বিজেপি জিতবে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু বলেন, "২০২৯ সালে ভোটে দাঁড়াবেন। যত ভোটে জিতেছিলেন, তার চেয়ে একটা হলেও বেশি ভোটে জিতব।

সিপিএমের ভোট পেলেও কিছু করতে পারবেন না।" অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, "আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আর আপনার কিছু হবে না।"সম্প্রতি পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাবও দেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার অভিষেক বলেছিলেন, যেসব পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে তাঁদের পরিণতি দেখা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
অভিষেকের সেই বক্তব্যের জবাবে শুভেন্দু বলেন, "মনে হয়, সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সমস্যা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে যেতে চাইছেন, যান। আমরা এনওসি করে দেব। আমরা সব দেখছি।" এরপর বারুইপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই অন্তত ৪০০ জনকে চমকে ধমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক হুমকির প্রসঙ্গ তুলেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি।এদিনের সভা থেকে জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
শওকত মোল্লা ও জাহাঙ্গির খানের নাম উল্লেখ করে তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় বেআইনিভাবে বহু জমি দখল করা হয়েছে। সেই সমস্ত জমি উদ্ধার করে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার বিষয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক করব। দেখে নেবেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।" এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।এদিন বারুইপুরের জনসভা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী-সহ সাগর, গোসাবা, সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, সাতগাছিয়া, ফলতা এবং বেহালা পূর্ব বিধানসভা এলাকার বিধায়করা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জয়নগর, যাদবপুর, মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সম্পাদক-সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থক।আগামী পুরভোটে ও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী।