পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে নবগঠিত ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকারের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার বিরুদ্ধে তাঁরই দলের অন্তত ২৪ জন বিধায়ক বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। মন্ত্রিসভার সদ্য হওয়া রদবদল এবং মুখ্যমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। দাবি না মানা হলে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহে যেতেও পিছপা হবেন না এই বিধায়করা।
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার শ্রীনগরে দলের বিধায়ক কায়সার জামশিদ লোনের বাড়িতে ১৮ জন বিধায়ক একটি গোপন বৈঠক করেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে সেখানে যোগ দেন আরও ৬ জন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মূল অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানির বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, উপদেষ্টা দল ও সরকারের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন, আর মুখ্যমন্ত্রী জেনেও না দেখার ভান করছেন। বিদ্রোহীদের বক্তব্য, তাঁরা দলের বিরুদ্ধে নন, বরং দলের অন্দরে গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই করছেন। পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বিধায়কদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হলো মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যহীনতা। অভিযোগ, মূলত ওয়ানির পরামর্শেই মন্ত্রিসভায় এমন রদবদল করা হয়েছে যেখানে ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম জম্মু বিভাগের ১০টি জেলার মধ্যে ৮টি থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি। উপত্যকার অন্যতম রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও মূল জম্মু ভূখণ্ড মন্ত্রিসভায় ব্রাত্য থেকে গিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীনগর থেকে দু’জন মন্ত্রী করা হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা একমাত্র হিন্দু মন্ত্রী সুরেন্দ্র চৌধুরীর উপরেও ক্ষুব্ধ বিদ্রোহীরা এবং তাঁকেও পদ থেকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিদ্রোহ ওমর আবদুল্লার সরকারকে চরম চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৯০ আসনের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্স ৪১টি এবং কংগ্রেস ৬টি আসন পায়। কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন করছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দলের ২৪ জন বিধায়ক যদি সত্যিই সঙ্গ ছাড়েন, তবে ওমর আবদুল্লার সরকারের স্থায়িত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।