মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। দেশের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থা ‘নাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শুক্রবার উৎক্ষেপণ করা হল নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ এনভিএস-০৩। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের মাধ্যমে উপগ্রহটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়। এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাঁর আশা, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল পাবেন দেশের সাধারণ মানুষও।

ইসরোর সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেট। উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পর রকেটটি এনভিএস-০৩ উপগ্রহকে নির্ধারিত জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার কক্ষপথে স্থাপন করে। মিশনের সাফল্য নিশ্চিত হওয়ার পর ইসরোর প্রধান ড. ভি নারায়ণন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানান।

পাশাপাশি উপগ্রহটি তৈরির কাজে যুক্ত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।

এই সাফল্যের পর সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি জানান, এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি এই উপগ্রহ মহাকাশ গবেষণায় ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

একই সঙ্গে দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এনভিএস-০৩ হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থা ‘নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন’ বা নাভিকের পরিষেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও উন্নত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে অবস্থান নির্ণয়, পথনির্দেশ এবং সঠিক সময়সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

বর্তমানে গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের নেভিগেশন, পরিবহণ, সামুদ্রিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এনভিএস-০৩-এর মতো নতুন প্রজন্মের উপগ্রহ ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় বিদেশি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ।