পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামী ছয় মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে রাজ্য বিজেপির অন্দরে যে অন্তর্কলহ রয়েছে, শুক্রবার লখনউয়ের একটি সভায় তা একপ্রকার স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলের কর্মীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ২০২৭ সালে রাজ্যে টানা তৃতীয়বার পদ্ম ফোটানোই একমাত্র লক্ষ্য, তাই রাগ-অভিমান সব গোমতীর জলে ফেলে দিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বেশ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই প্রথমবার রাজ্যে বিরোধীদের তুলনায় কম আসন পেয়েছে তারা।

ইন্ডিয়া জোট পেয়েছিল ৪৩টি আসন এবং এনডিএ-র দখলে এসেছিল মাত্র ৩৬টি আসন। এই খারাপ ফল শুধু লোকসভাতেই থেমে থাকেনি, সদ্য শেষ হওয়া বিধান পরিষদ নির্বাচনেও বারাণসীতে জোড়া হার এবং লখনউ ও প্রয়াগরাজের মতো শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপিকে।
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক খারাপ ফলের নেপথ্যে মূলত অন্তর্কলহকেই দায়ী করা হচ্ছে। ঠাকুর ও ব্রাহ্মণদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, উচ্চবর্ণের সঙ্গে ওবিসিদের সংঘাত এবং সর্বোপরি দলের কর্মীদের একজোট করতে না পারাই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দুই উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং ব্রজেশ পাঠকের বনিবনা না থাকার কথাও শোনা যায়।

দলের এই ফাটল মেরামতি করতেই এবার আসরে নেমেছেন খোদ অমিত শাহ। শুক্রবারের দলীয় বৈঠকে তিনি কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “কোনও নেতাই দলকে ভোটে জেতায় না, জেতান কর্মীরাই। তাই সব ক্ষোভ-বিক্ষোভ গোমতীর জলে ফেলে দিয়ে একটাই লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন, আর তা হলো পদ্মের জয়।”
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমিত শাহ আত্মবিশ্বাসের সুরে ঘোষণা করেন, "আগামী ৩০ বছর উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবে না সমাজবাদী পার্টি। বিজেপি অঙ্গদের পায়ের মতো, একে কেউ টলাতে পারবে না।" তবে তাঁর এই বার্তার মধ্যে দিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে তাঁর উদ্বেগও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।