পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং অভিযোগ করেছেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের একটি অংশ কংগ্রেসের সাথে যোগসাজশে ষড়যন্ত্র করেছিল। এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বীরেন সিং দাবি করেন, ২০১৭ সালে কংগ্রেসে ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং পর পর দু'বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া রাজ্যের কয়েকজন বিজেপি নেতা সহ্য করতে পারেননি। তাঁরা বিজেপিকে নিজেদের "ব্যক্তিগত সম্পত্তি" মনে করে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালান এবং শেষ পর্যন্ত গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন।

নিজের পদত্যাগের পর মণিপুরে মেতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের পাশাপাশি নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বীরেন সিং বলেন, "এখন তো বীরেন সিং বাইরে! তবে এখন কেন নতুন করে মানুষ মারা যাচ্ছেন?

আগে আমাকে দায়ী করে বলা হতো আমি সংখ্যাগরিষ্ঠদের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করি। এখন তো খ্রিস্টান বনাম খ্রিস্টান লড়াই চলছে! কোথায় গেল ইউরোপীয় ইউনিয়ন?"

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এন বীরেন সিংকে সরিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ওয়াই খেমচাঁদ সিং-কে মনিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী করে রাজ্য বিজেপি। খেমচাঁদ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও মণিপুরে নাগাদের মৃত্যু ও নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বীরেন সিং।

তিনি বলেন, "২০১৭ সাল থেকেই আমার সাথে দলের একটি অংশ ভালো আচরণ করেনি। আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করছি না, তবে রাজ্য নেতৃত্বের একটি গোষ্ঠী কংগ্রেসের সাথে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। আমার পদত্যাগের মাধ্যমে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরবে বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবতা কি বদলেছে?"

বর্তমান সরকারের কার্যকলাপের সমালোচনা করলেও মণিপুরকে বাঁচাতে বিজেপি সরকারকেই একমাত্র বিকল্প বলে দাবি করেছেন এন বীরেন সিং। তিনি বলেন, "মণিপুরকে বাঁচাতে হলে এবং রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে বিজেপিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে।" তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনগণের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস পুনর্দখল করতে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হস্তক্ষেপ করবে।