পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোর পাস দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে এবার লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পাসের জালিয়াতি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতি কাণ্ডে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন মধুছন্দা। দুর্নীতির প্রকৃত কারণ খুঁজতেই তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে।


গত বুধবার পুজোর ভিআইপি পাস দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ইন্দ্রনীল সেন। ইডির জেরার পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযোগ, তাঁর আমলে বিপুল অঙ্কের পাস দুর্নীতি হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সরাসরি যুক্ত।
বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, 'মাস আর্ট' (Mass Art) নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের ভিআইপি পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তছরুপ করেছেন ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রী।
গত জুন মাসে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ট্রাভেল এজেন্ট এই অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও, এই পাস বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে ইডি।
লালবাজারের গোয়েন্দাদের অভিযোগ, 'মাস আর্ট' সংস্থাটি ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। পাশাপাশি, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অনুষ্ঠান এবং বইমেলায় কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে।
গোয়েন্দাদের দাবি, পুজো ও টেন্ডার দুর্নীতি মিলিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকার তছরুপ হয়েছে।
বুধবার রাতে এই সংক্রান্ত নথি ও অ্যাকাউন্ট সামনে রেখে প্রাক্তন মন্ত্রীকে দীর্ঘ জেরা করেন গোয়েন্দারা, তবে তিনি একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে যান। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। লালবাজারের দাবি, ইন্দ্রনীলের মদতে ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই দুর্নীতির টাকা ইন্দ্রনীলের স্ত্রী, মেয়ে এবং আত্মীয়দের নামে থাকা একাধিক ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে আরও তথ্য জানতেই এবার মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।