শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর বিরোধিতা—এই তিন দফা দাবিতে জার্মানির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামলেন জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার হ্যালোইনের রাতেই বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন ও মিউনিখ-সহ একাধিক শহর। ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
আরও পড়ুন:
জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টের শহরাঞ্চলে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় আরও কয়েকটি দোকান। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে মোলোটভ ককটেল ছুড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যম এক্সে সতর্কবার্তা দেয় ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক দোকানের জানালা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করেও মোলোটভ ককটেল ছোড়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অথবা সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।আরও পড়ুন:
বিক্ষোভে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, তা নিয়ে অবশ্য আয়োজক ও পুলিশের পরিসংখ্যানে ফারাক রয়েছে। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে ৩৬ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা বলা হলেও পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিন মিলিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, সংগঠকদের প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল, প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। হামবুর্গেও বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন:
বার্লিনের সমাবেশে আন্দোলনের দাবিগুলি তুলে ধরেন ‘জেন জি রেজেল্ট’ সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ ও বাধ্যবাধকতার বদলে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এসেছি।
” তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার পরিবর্তে আর্থিক ও সামাজিক বোঝার ন্যায্য বণ্টন চান তরুণেরা।আরও পড়ুন:
বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির হেসি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক। ফ্রান্সের অতীতের হিংসাত্মক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং সরকারি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনাগুলি মনে রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ফ্রান্সের এই পরিস্থিতিকে কোনওভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা যায় না।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বিক্ষোভে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বার্লিনের বিলাসবহুল কুর্ফুর্স্টেনডাম শপিং অ্যাভিনিউ-সহ একাধিক শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগাম সতর্কতা নেয়। বেশ কিছু দোকানের সামনের অংশ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থী স্টিভ চ্যান্সেলর জার্মান সরকারের সমালোচনা করেন।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জকে উদ্দেশ করে তাঁর বক্তব্য, তরুণদের উদ্বেগের জবাবে সরকার বারবার ছাঁটাই এবং তাঁদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোর পথ বেছে নিচ্ছে। সরকার তাঁদের দাবি উপেক্ষা করা বন্ধ না-করা পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।আরও পড়ুন:
শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির পড়ুয়া শন বেকার। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য পরিকাঠামো দেখে মনে হয় যেন সেগুলি পরিত্যক্ত। অথচ সেই পরিবেশেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
আরও পড়ুন:
তবে জার্মানির জাতীয় শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর কথা ঘোষণা করেছে তারা।
আরও পড়ুন:
সার্বিয়া ও ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে একাধিক বিক্ষোভের পর এবার জার্মানিতেও ছড়াল ছাত্র ও যুব অসন্তোষ। শিক্ষার পরিকাঠামো, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামরিক পরিষেবা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ।