ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ সরকার গঠনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রেখে বিকল্প সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ। শনিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ইহুদি ও আরবদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে অস্বীকার করে’ এবং ‘বর্ণবাদকে না, অংশীদারিত্বকে হ্যাঁ’। দ্বিজাতিক সমাজতান্ত্রিক বামপন্থী সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’-এর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন পেয়েছে। ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু বিরোধী শিবিরের ইহুদি নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ দলই আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট সরকার গঠনে অনিচ্ছুক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থন বাদ দিলে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ৪৮। যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যার তুলনায় পাঁচটি কম। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংখ্যার অঙ্কে বাধা তৈরি হচ্ছে।আরও পড়ুন:
এদিকে, নির্বাচনে আরব দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির অভিযোগ, বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন সরকারের সহায়তায় আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করে আসন পেয়েছে।
এই অভিযোগের তদন্তের দাবিতে হাবিমা স্কোয়ারেই ডানপন্থীদের পাল্টা বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে নেতানিয়াহুর কয়েকজন সমর্থক ওই চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেছেন।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে যৌথ সরকার গঠনের দাবি জানানো বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই বিকল্প সরকার গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে আরব দলগুলোর সমর্থন আদায় কিংবা বিরোধী জোটের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি না হলে কোনও পক্ষের পক্ষেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। ফলে ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ও দর-কষাকষি আরও জোরদার হয়েছে।