দেশ থেকে মাওবাদী নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে মাওবাদীদের পাশাপাশি এবারও তাঁর নিশানায় ‘দিমাগি নকশাল’রা। শনিবার গুজরাতের একতা নগরে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী অভিযোগ করেন, দেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই শক্তি। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলিকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, নিজেদের দায়িত্ব পালন না-করে বিরোধীরা দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে ঐক্যের বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, ঐক্যই ভারতকে একটি দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি। এরপরই মাওবাদী দমনে তাঁর সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গত বছর আমি বলেছিলাম, দেশকে মাওবাদীমুক্ত না-করা পর্যন্ত বিশ্রাম নেব না।
সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। মাওবাদীদের নির্মূল করা সম্ভব হলেও দিমাগি নকশালেরা এখনও অশান্তি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপচেষ্টার মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
এদিন বিরোধী দলগুলিকেও একহাত নেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, সংবিধানের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধীরা। তিনি বলেন, “এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে বিরোধী দলগুলি নিজেদের কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ। তারা দেশকে বিভক্ত করার লক্ষ্যে একজোট হয়েছে।
”আরও পড়ুন:
বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা এবং মানুষের মধ্যে বিভেদ ও সংঘাত তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার হতাশা থেকেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি এই ধরনের রাজনীতি করছে।
আরও পড়ুন:
মোদীর কথায়, দেশ যখনই কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেয় বা নতুন সংকল্প গ্রহণ করে, তখনই বাধা আসবে। কিন্তু সেই বাধা পেরিয়েই এগিয়ে যেতে হবে ভারতকে। পাশাপাশি বিদেশে কারা কার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছেন এবং কোন শক্তি ভারতের বিরোধিতা করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ধরনের শক্তিকে চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রথম ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা কমলেও মাওবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও সক্রিয়।
তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। পরবর্তী বিভিন্ন ভাষণেও এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি। শনিবার রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের মঞ্চ থেকেও সেই একই বক্তব্য তুলে ধরলেন মোদী।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, মোদী যখন গুজরাতে বিরোধীদের আক্রমণ করছেন, তখন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবনে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রতীকী ইমপিচমেন্ট কর্মসূচি পালন করে বিরোধীরা। ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবি জানানো হয়। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানেও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট।
আরও পড়ুন:
বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাহুল গান্ধীকে ‘নকল প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে তুলে ধরার মন্তব্যও করেছেন বিজেপি নেতারা। ফলে একদিকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদীর বিরোধী আক্রমণ, অন্যদিকে দিল্লিতে বিরোধীদের পাল্টা কর্মসূচি—জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।