মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আয়োজিত প্রতীকী সংসদে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুলে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। রাহুলের হুঁশিয়ারি, “বিজেপি ভোটে কারচুপি চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিরোধী নেতারা এবং দেশের সাধারণ মানুষ তা ক্ষমা করবেন না, ভুলেও যাবেন না।”
আরও পড়ুন:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট। তাঁকে অপসারণের দাবিতে সংসদে ইমপিচমেন্টের নোটিস জমা দিলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের দিল্লির ১০, রাজাজি মার্গের বাসভবনে বসে ‘জন মহাবিযোগ’ বা প্রতীকী ইমপিচমেন্ট কর্মসূচি। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। গোটা কর্মসূচি পরিচালনা করেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার।
আরও পড়ুন:
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া, ভোট চুরির ষড়যন্ত্র, সংসদের অনুমোদন ছাড়া ফর্ম ৬ সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কাজে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের মতো একাধিক বিষয়ে দায়ী জ্ঞানেশ কুমার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
এই কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি জানান খড়্গে। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে হবে, এসআইআর বন্ধ করতে হবে এবং ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে হবে। বিরোধীদের বক্তব্য, বর্তমান নিয়োগ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন:
খড়্গের বক্তব্যকে সমর্থন করে রাহুল গান্ধী আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে তাঁর আদালতে বিচারের দাবিও জানান তিনি। রাহুলের কথায়, “এই ভদ্রলোক যাতে আর পদে থাকতে না পারেন, তার যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। সমস্ত তথ্য সামনে আনার পরেও বিজেপি যদি তাঁকে পদে বহাল রাখে, তা হলে তাদের আসল উদ্দেশ্য সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
”আরও পড়ুন:
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, বিরোধীদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেই কারণেই সংসদের বাইরে একটি বাসভবনের বাগানে বসে তাঁদের প্রতীকী সংসদ আয়োজন করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের সাংসদ ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে না পেরে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। রাহুল গান্ধীকে ‘মক প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ছদ্ম সংসদে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসিয়ে প্রতিদিন সেই ভূমিকায় অভিনয় করানো উচিত।
আরও পড়ুন:
বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। শনিবার গুজরাতের একতা নগরে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। তাঁর অভিযোগ, দেশকে বিভক্ত করার লক্ষ্যেই বিরোধীরা একজোট হয়েছে।
এদিকে, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বড়সড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
আরও পড়ুন:
সমাবেশের আগে মিছিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী জোটের। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য চার হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং বডি-ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।