দিল্লির রামলীলা ময়দানে রবিবার সকাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে ভিড়। ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই সেখানে জমায়েত করতে শুরু করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। রামলীলা ময়দান-সহ দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা।
আরও পড়ুন:
রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে মিছিল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের। সেই মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের।
এ ছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতার। মিছিল শেষে রামলীলা ময়দানে সমাবেশে যোগ দেবেন তাঁরা। তার আগে খড়্গের বাসভবনে জড়ো হচ্ছেন বিরোধী নেতারা।আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই রামলীলা ময়দানে পৌঁছে গিয়েছেন বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের মিছিলও সভাস্থলে পৌঁছেছে। বাম শরিক দলগুলির নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) রোহিত রাজবীর জানিয়েছেন, রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রামলীলা ময়দানে জমায়েত শুরু হয়েছে। সেখানে সমাবেশের জন্য কংগ্রেস আগেই পুলিশের অনুমতি নিয়েছিল। তবে কনট প্লেস থেকে মিছিল করার বিষয়ে আগে থেকে পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা আধিকারিকেরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের জমায়েতের জায়গা রয়েছে। সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সভাস্থলে পৌঁছোনোর আগেই অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
যদিও বিরোধী জোটের দাবি, রবিবারের কর্মসূচিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে। ভিড় সামলাতে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শহরজুড়ে ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।আরও পড়ুন:
এদিকে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচির দিনেই দিল্লিতে পাল্টা মিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসায় নিহতদের স্মরণে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের। বিজেপির অভিযোগ, শিখবিরোধী হিংসার বর্ষপূর্তির দিনেই কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের কর্মসূচি রেখেছে।
আরও পড়ুন:
ফলে একই দিনে দিল্লির দুই প্রান্তে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও বিজেপির পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হয়েছে পুলিশকে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।