পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মাত্র কয়েকদিন আগেই আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের দানা বাঁধল আরও একটি নতুন ঘূর্ণিঝড়। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। ভারতের মৌসম ভবন রবিবার জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ফের একবার ঝড়ের তাণ্ডবের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


মৌসম ভবনের প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল যে রবিবার মধ্যরাতে এই ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হতে পারে। কিন্তু তার আগেই ‘মুরাসু’-র জন্ম হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি আরও শক্তি বাড়িয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। মঙ্গলবার ভোরের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল, অর্থাৎ নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী কোনো এক অংশ দিয়ে এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড়টি নির্ধারিত সময়ের আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে, তাই এর ‘ল্যান্ডফল’ বা স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময়ও এগিয়ে আসতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘মুরাসু’ যখন উপকূলে আছড়ে পড়বে, তখন বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ১২০ কিলোমিটারেও। এই নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করেছে ভারত। তামিল শব্দ ‘মুরাসু’-এর অর্থ হলো প্রাচীন এক ধরনের ঢাক বা বাদ্যযন্ত্র, যা অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য বাজানো হতো।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের কাছে ‘অর্ণব’ নামের অতি তীব্র একটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল, যার জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে এই দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম হলেও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে এর তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তারপর থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করবে।