পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশ। হুডখোলা গাড়িতে চড়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আর এই সমাবেশের দিনক্ষণ ঘিরেই লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবেই আজকের এই বিশেষ দিনটিকে বিক্ষোভের জন্য বেছে নিয়েছে।

পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে এহেন সমাবেশের জেরে দিল্লির ব্যবসায়ীদের যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হন তিনি।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জে পি নাড্ডা অভিযোগ করেন, দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। ১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালের এই দিনটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শিখ সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলা ও দাঙ্গা হয়েছিল। নাড্ডার কথায়, এই দিনটিতে দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণ করার কথা, কিন্তু কংগ্রেস তা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ডাক দিয়েছে।
তাঁর দাবি, শিখ দাঙ্গা একটি মহাপাপ এবং কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়নি।
গান্ধী পরিবারকে সরাসরি নিশানা করে বিজেপি সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা এবং সর্বোপরি একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করাই হলো গান্ধী পরিবারের রাজনীতির মূল মডেল। এর নেপথ্যে বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে নাড্ডা কড়া বার্তায় জানিয়ে দেন, ভারত কোনও দুর্বল রাষ্ট্র নয় যে চাইলেই এখানে সহজে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে শাসনব্যবস্থা বদল করা যাবে। দেশের মানুষ বিরোধীদের এই রাজনৈতিক চক্রান্ত বুঝে গিয়েছেন এবং তাঁরা কোনওভাবেই এই ফাঁদে পা দেবেন না বলে দাবি করেছেন জে পি নাড্ডা।