পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৩ সালের গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। গত কয়েকদিন ধরে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে নতুন করে হিংসা ছড়াচ্ছে। শনিবার রাতে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নাগা গোষ্ঠীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ে কুকি জো সম্প্রদায়ের এই তিন ব্যক্তি নিহত হন।
শনিবার মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে মেতেই এবং নাগা সম্প্রদায় এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করেছিল।
কুকি সংগঠন, 'কুকি ইনপি মণিপুর'-এর অভিযোগ, কুকি অধ্যুষিত এলাকায় সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিচ্ছে না। তাদের দাবি, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই কুকিদের ওপর নাগা হামলা চলছে এবং সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা রেখেছে। এটি কুকিদের ওপর একটি পরিকল্পিত নির্যাতন বলেও তারা মনে করছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ইম্ফলে দুষ্কৃতীদের গুলিতে দুই গ্রামবাসীর মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ইম্ফল ইস্ট এবং কাংপোকপি জেলার সীমান্তে খোংবাল সুনুরোক উয়োক এলাকায় কাঠ কুড়োতে যাওয়া ১৬ জন গ্রামবাসীর ওপর সশস্ত্র জঙ্গিরা পাহাড় থেকে গুলি চালায়। এই ঘটনায় দু'জন প্রাণ হারান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ জনতা মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর গেটের সামনে মৃতদেহ ফেলে রেখে প্রতিবাদ জানায়। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর নিরাপত্তা ব্যাপক জোরদার করা হয়।
রাজ্যে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ায় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং (ওয়াই খেমচাঁদ সিং নয়) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে অশান্তি থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।